একবার ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। প্রথম দিন ক্লাসে আসলে বৃদ্ধ বয়সে তার এমন পড়াশুনার প্রতি ঝোঁক দেখে সবাই তার কাছে জানতে চাইলো যে, এই বয়সে কেন তিনি এমনটা করলেন। বৃদ্ধা হাসিমাখা মুখে জানালেন, “আসলে আমার নামে কোনও একাডেমিক ডিগ্রী নেই। তাই আমার খুব ইচ্ছা একটা ডিগ্রী অর্জন করা আর তাই এ স্বপ্ন পূরন করতেই আমি ভার্সিটি ভর্তি হয়েছি”। ক্লাসে সবাই বৃদ্ধাকে একজন অভিভাবক কিন্তু বন্ধু হিসেবে গ্রহন করে নিলো। বৃদ্ধা যেখানেই যেতেন সেখানেই তাঁকে সবাই তার জন্য শ্রদ্ধার সাথে আসন ছেড়ে দিত। সুযোগ পেলেই সবাই তার কাছে তার জীবন সম্পর্কে জানতে চাইতো। কিভাবে তিনি তার দীর্ঘ জীবন পার করেছেন, কিভাবে সকল বাঁধাকে উপেক্ষা করে আজ এতদূর আসতে পেরেছেন- এসব ব্যাপারে তার কাছে সবাই জিজ্ঞাসা করতো। দেখতে দেখতে ৪ টি বছর কেটে যায়। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবার পর একদিন কলেজে অতীতের সকল ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে এক আনন্দসভা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। আনন্দসভায় সেই বৃদ্ধাকে একটি ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। সকলের অনুরোধে বৃদ্ধা ভাষণ দিতে স্টেজে উঠতে গেলে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যান। বৃদ্ধার এমন অবস্থা দেখে সবাই কিছুটা বিব্রত বোধ করলেও বৃদ্ধা কারও দিকে না তাকিয়ে হাসিমুখেই ভাষণ দিতে শুরু করেন এবং শুরুতেই মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলে উঠলেন, “পড়ে গিয়েছিলাম বলেই এখানে উঠতে পেরেছি। যখন উঠতে চেষ্টা করেছি তখন আমার ধারনা হয়েছে এতো উঁচু জায়গার উপর আমি উঠতে পারবো না। ঠিক তাই হয়েছে- চেষ্টা করা মাত্র পড়ে গিয়েছি। আর যখনই পড়ে গিয়েছি তখনই মাথাই চিন্তা এসেছে আমি উঠেই ছাড়বো আর তাই উঠতে পেরেছি। তার মানে এখানে আমার জন্য পড়ে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তা না হলে উপরে ওঠার মতো মানসিকতার সৃষ্টি হতো না”

সুউচ্চ পর্বতে আরোহন করতে গেলে অবশ্যই প্রথম পদক্ষেপটা একেবারে নিচের দিকেই থাকে। সম্ভবত এটি কাউকে আরো বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখার, সাহস করার এবং উদ্যোমী হওয়ার স্পৃহা যোগায়, তাই এই পিছিয়ে পড়া। আর এটাই সত্য। তাই মাঝে মাঝে পিছিয়ে পড়াকে পিছিয়ে পড়াও বলে না।

একবার এক শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের কে যার যার জীবনের লক্ষ্য কি তা নিয়ে লিখতে দিয়েছেন। ক্লাসের সর্বশেষ বেঞ্চে বসা ছেলেটি বসে শুধু ভাবছিল সে কি লিখবে। বেশ কিছুসময় পর ছেলেটি দশ পৃষ্ঠার একটি বিশাল রচনা লিখে শিক্ষকের হাতে দিল।শিক্ষক বেশ কিছু সময় নিয়ে রচনাটি পড়ে তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন এমন উদ্ভট রচনা আর কখনও লিখবে না! ছেলেটি জানতে চাইলো সে এমন কি লিখেছে যার কারনে রচনাটি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। শিক্ষক বললেন,

“তুমি লিখেছ তোমার স্বপ্ন নাকি নিজস্ব একটা ঘোড়ার খামার দেবে, যেখানে পৃথিবীর সব দূর্লভ জাতের ঘোড়া থাকবে। এটা কি করে সম্ভব! তোমার না আছে টাকা, আর না আছে তোমার বাবার বিশাল জমি যেখানে করবে ঘোড়ার খামার! তাই এমন আকাশ কুসুম না ভেবে ভালো কিছু ভাবো যেখানে তোমার ভবিষ্যৎগড়তে সমস্যা হবে না। সুতরাং তুমি আগামিকাল আবার তোমার জীবনের লক্ষের ব্যাপারে বাসা থেকে লিখে আনবে, আমি আগামিকাল আবার তা দেখবো”

শিক্ষকের মুখে এমন কথা শুনে ছাত্রটি তার বাড়িতে যেয়ে তার বাবাকে স্কুলের সব ঘটনা খুলে বলল। জবাবে বাবা বললেন, “যা কিছুই করো সেটা মন দিয়ে করো, অবশ্যই তাতে ফল পাবে”।

বাবার মুখে এমন কথা শুনে ছেলেটি আবার রচনা লিখতে শুরু করলো এবং আগের মতোই সেই একই কথা লিখে নিয়ে পরদিন শিক্ষকের হাতে দিয়ে বলল, “আপনি ওটা আবার ছিঁড়ে ফেলতে পারেন, কিন্তু আমি আমার স্বপ্ন কখনই ভেঙ্গে ফেলবো না”!

এরপর কেটে যায় বেশ কিছু বছর। স্কুলে তখন পর্যন্তও সেই শিক্ষক কর্মরত কিন্তু সেই ছেলেটি পড়াশুনার পাঠ চুকিয়েছে অনেক আগেই। স্কুলের পিকনিকের সময় শিক্ষক তার ক্লাসের সকল ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে উপস্থিত হয় একটি অত্যাধুনিক পিকনিক কর্নারে। এদিক সেদিক ঘুরতে ঘুরতেই দেখা হয় সেই ছেলেটির সাথে। শিক্ষক জানতে চান এখন সে কি করছে। জবাবে ছেলেটি বলল,

“আমি অনেক কষ্ট করে ছোট্ট এক টুকরো জমি কিনেছিলাম, এরপর নেমে পড়ি ঘোড়া শাবকের সন্ধানে। ধীরে ধীরে বিভিন্ন জায়গা থেকে আমি ভালো সাড়া পেতে থাকি। এবং বর্তমানে আমার কাছেই রয়েছে সকল প্রজাতির মূল্যবান সব ঘোড়া যা বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্জিত আয় দিয়ে আমি তৈরি করেছি আরও বেশ ক’টি খামার, এমনকি এই পিকনিক স্পটটিও আমার তৈরি!”

এতক্ষণ বাদে শিক্ষক মুখ খুললেন আর বললেন, “সত্যিই তুমি আমাকে মুগ্ধ করেছো! এতো বছরে আমি শত শত ছেলে মেয়েদের স্বপ্নকে কেড়ে নিয়েছি অথচ একমাত্র তুমিই তোমার স্বপ্নকে আগলে রেখেছ।তোমার আরও উন্নতি হোক-এই কামনাকরি”

জয় হোক, সেসব অপ্রতিরুদ্ধ মানুষদের যারা জীবনযুদ্ধে কখনো হাল ছেড়ে দেয় না। প্রতিটি বিপর্যয় যাদের কে নতুনভাবে এবং আরো শক্তিশালী হয়ে কাজে নামতে অনুপ্রেরণা যোগায়। আকাংখিত লক্ষ্যে পৌছে যাবেনই, আজ না হোক, কাল।

If you are going through hell, keep going!

Ask Us, anything from anywhere

 

Facebook Comments



Also published on Medium.

Load More Related Articles
Load More By Nazmus Sadat
Load More In Featured

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

Why I read a book a day (and why you should too): the law of 33%

Facebook Comments Related …